শিরোনাম
এস এম সালাহউদ্দিন, আনোয়ারা | ০৮:১৪ পিএম, ২০২৫-০৪-২৮
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) আবারো নির্বিচারে পাহাড় কেটে সাবাড় করছে । নতুন কারখানা তৈরির অজুহাতে একের পর এক পাহাড় কেটে শেষ করছে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ। পূর্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে কেইপিজেডকে হাইকোর্ট নির্দেশনাও দেন। কিন্তু সময় ও সুযোগ বুঝে তারা আবারো কখনো রাতে আবার কখনো দিনে পাহাড় কাটছে। এর ফলে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।
পাহাড়ে বসবাসরত বণ্যপ্রাণীরা চলে আসছে লোকালয়ে, নষ্ট করছে জমির ফসল। পাহাড় কাটার কারনে বিগত ৮ বছরে বন্য হাতি আনোয়ারা কর্ণফুলীতে ১৯ জন নারী-শিশু ও বৃদ্ধকে হত্যাও করছে। তবে পাহাড় কাটা নিয়ে প্রশ্ন করলে কেইপিজেডের এজিএম মো. মুশফিকুর রহমান জানান, সরকার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই পাহাড় কাটা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খননযন্ত্র দিয়ে আনোয়ারা বৈরাগের কারখানার দক্ষিণ পাশে এস্কেভেটর দিয়ে উঁচু পাহাড় কেটে মাটি অপসারণ করে সমতল করা হচ্ছে। এতে করে বিলুপ্তির পথে এখন দেয়াং পাহাড়। বাকি যে টিলা-পাহাড়গুলো রয়েছে সেগুলো কেটে মাটি একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে কারখানা, ইমারত ও রাস্তা।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ বেসরকারী ইপিজেড আইনে দেশের প্রথম ব্যক্তি মালিকানায় চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার দেয়াং পাহাড়ে ২ হাজার ৪৯২ একর জমির উপর কোরিয়ান কোম্পানি ইয়াংওয়ান কপোর্রেশন কোরিয়ান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) স্থাপন করে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেন। সরকারের সাথে তাদের চুক্তি অনুযায়ী পাহাড়ে সবুজায়নসহ যেখানে যে অবস্থায় আছে সেভাবেই কারখানা নির্মাণ করতে হবে। কোন ভাবেই পাহাড় কাটা যাবেনা। কিন্তু কেইপিজেড বিভিন্ন সময় পাহাড় কাটা শুরু করলে পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে পাহাড় কাটা বন্ধসহ জরিমানা করেন তাদের।
২০০৯ সালের ২৩ নভেম্বর এক চিঠিতে আদালত কেইপিজেডকে পাহাড় ড্রেসিংয়ের অনুমতি দেয়। তবে পাহাড় কেটে বিলুপ্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এমনকি পাহাড়-টিলা কাটার আগে পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানাতে হবে বলেও নির্দেশনা দেন আদালত। কিন্তু এসবের কিছুই তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন সময় নির্বিচারে তাঁরা পাহাড় কাটছে। এসব নির্দেশ অমান্য করায় হাইকোর্ট পাহাড় কাটা বন্ধ রাখার জন্যও নির্দেশ দেন।
২০১২ সালে পাহাড় কাটার অভিযোগে কেইপিজেডের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলাও করেন পরিবেশ অধিদপ্তর।কেইপিজেডকে দেওয়া শর্তে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়মানুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে ৩৩ শতাংশ জমিতে বনায়ন, ১৯ শতাংশ জমি জলাধার ও খালি জায়গার জন্য রাখতে হবে। ফলে কারখানা ও অন্যান্য অবকাঠামোর জন্য জমি থাকবে এক হাজার ২০০ একরের মতো। এ জমির আবার ৩০ শতাংশ (৩৬০ একর) রাস্তা, পরিসেবা ও আনুষঙ্গিক সহযোগী অবকাঠামোর জন্য ব্যয় হবে। অর্থাৎ কারখানা করা যাবে সর্বসাকুল্যে ৮৪০ একর জমিতে। এসব শর্ত নামানায় বিগত আওয়ামীলীগ সরকার কেইপিজেডকে ৫০০ একর জমির মালিকানা দিয়ে বাকি জমি ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। এরপর তারা নতুন নতুন কারখানা স্থাপন শুরু করেন। সম্প্রতি অন্তবর্তী সরকার কেইপিজেডকে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দেন এবং কেইপিজেডের চেয়ারম্যান কিহাক সাংকে সম্মাননা হিসেবে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন।
জানতে চাইলে কেইপিজেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকার আমাদের বলেছে দ্রুত কারখানা স্থাপন করতে। তাই এখন আর আমরা বসে থাকিনি, পরিবেশের যাতে ক্ষতি না হয়, সেভাবে পাহাড়ের টিলা কেটে সমতল করা হচ্ছে। যেসব শর্তে পরিবেশ অধিদপ্তর অনুমতি দিয়েছে আমরা কোনোভাবেই ওই শর্ত লঙ্ঘন করিনি।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর অনুমতি আগেই নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিদর্শক মো. মঈনুদ্দিন ফায়সাল বলেন, ঢাকা থেকে এক্সপার্ট টিম দিয়ে তারা কতটুকু অনুমোদন নিয়েছে মাটি কাটার জন্য তা পরীক্ষা করা হবে৷ আর অনুমোদন অনুযায়ী কতটুকু কাটতে পারবে তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে। আপাতত মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে।
আবদুল্লাহ মজুমদার : : চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তায় প্রতিদিনের যানজট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, বর্জ্যের স্তূপ আর নাগরিক দুর্ভোগের ম...বিস্তারিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি : : রাঙামাটিতে কোতয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযà...বিস্তারিত
মো.আরফান উদ্দীন : পৃথিবীর আর কোন দেশে বাংলাদেশের মতো প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় এত মানুষের প্রাণহানি ঘটে কি না, তা আমার...বিস্তারিত
আবদুল্লাহ মজুমদার : : একটি মৃত্যুদণ্ডের খবর কখনো কখনো একটি পরিবারের শোকের সীমানা ছাড়িয়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধকেই কাঠগà§...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, জেলা ৩১৫-বি৪, বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগং কর্ণফুলী এল...বিস্তারিত
আমাদের ডেস্ক : : কবিতা, সাহিত্য এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক সার্...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Dainik amader Chattagram | Developed By Muktodhara Technology Limited